
নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ ফাইনালকে সামনে রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক জানান, গত কয়েক বছরে দলের অভাবনীয় সাফল্যের কথা মনে পড়লে মাঝে মধ্যেই তার চোখে পানি চলে আসে। তবে এই আবেগের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে তিনি পূর্ণ মনোযোগ ধরে রেখেছেন।
মার্তিনেজ বলেন, আমি এখন কেবলই জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের পুরো দল গত কয়েক বছরে যে উন্নতি করেছে, তা আমরা বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে তুলেছি। সত্যি বলতে, মাঝে মধ্যে আমরা কী অর্জন করেছি তা একা একা ভাবলে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি, কারণ অনেক সময় ফুটবলার হিসেবে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না যে ক্যারিয়ারের কোন চূড়ায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি।
৩৩ বছর বয়সি এই তারকা তার সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার একটাই বার্তা—এই মুহূর্তটা উপভোগ করো এবং মুখে হাসি নিয়ে প্রস্তুতি নাও। এটা এমন এক স্মৃতি যা আমরা আজীবন মনে রাখব।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করে মার্তিনেজ বলেন, গত ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টি পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম ৮০ মিনিট আমরা ওদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা তিনটি গোল খেয়ে বসি, আর ফাইনালে তিনটি গোল হজম করলে সাধারণত ম্যাচ হারার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। একদম শেষ মুহূর্তে আমাকে ওই সেভটা করতেই হতো। মাঝে মধ্যে বল গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়, যেমনটা এবার গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে হয়েছিল। সেদিন তো বল আমার পায়ের মাঝখান দিয়ে গলে গিয়েছিল, সৌভাগ্যবশত সেদিনের ফাইনালে তেমন কিছু হয়নি।
মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে আঙুল ভেঙে ইনজুরি নিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে এলেও, ২০২২ সালের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ সফরটি অনেক বেশি উপভোগ করছেন বলে জানান তিনি। মার্তিনেজের মতে, এখন তার বল পাসিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আগের চেয়ে আরও উন্নত হয়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের পঞ্চম ফাইনাল খেলতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রোববার স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য এক কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। নিজেদের লিগ্যাসি বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দলের পরিচয় কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেন, আমাদের দলের সব খেলোয়াড়ই উঠে এসেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। আমাদের বাবা-মায়েদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :