Facebook Twitter Instagram YouTube

তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ /
তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম

রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজ এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রতিষ্ঠান তিনটির কার্যক্রম তদন্ত করে প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে নিয়োগ পাওয়া ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এবং গভর্নিং বডির অনুমোদনের প্রয়োজনীয় নথিপত্রও কর্তৃপক্ষ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক এবং ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপককে চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নগদে ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজে ভ্যাট কর্তন না করায় সরকারের প্রায় ২৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া গভর্নিং বডির সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা গ্রহণ করেছেন, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নরসিংদীর আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসাতেও নিয়োগ ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে সাতজন শিক্ষক ও কর্মচারীর কাছ থেকে মোট ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সহকারী গ্রন্থাগারিক নেছার উদ্দিন আহমদকে ২৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, জুনিয়র শিক্ষক শামসুন্নাহারকে ১১ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং জুনিয়র মৌলভী মানসুরা আক্তারকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্কেলের বাইরে বেতন নেয়ার দায়ে আরও তিন প্রভাষক ও শিক্ষকের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও ফাজিল পর্যায়ে অবকাঠামোগত দুর্বলতার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি ও অনুদানসহ বিভিন্ন অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেন করায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin