
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে একটি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ প্রদান করেন। শুনানির সময় আসামি খায়রুল হক সরাসরি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; বরং ভার্চুয়ালি কারাগার থেকে তাকে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে, গত ২ জুলাই বনানী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালী সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনায় উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে পুলিশ বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু একের পর এক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের কারণে তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না।
এর আগে গত ২৩ মে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খোবাইব নামের একজনকে হত্যার অভিযোগে এই মামলাটি করেছিলেন নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ। ওই মামলায় অধস্তন আদালতে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খায়রুল হক। গত ৩০ জুন হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করলেও, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ফলে তার মুক্তি আবারও বাধাগ্রস্ত হলো।
আপনার মতামত লিখুন :