
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কাঁচা মরিচের দাম যেন হঠাৎ করেই আকাশ ছুঁয়েছে। এক সময় যে টাকায় এক কেজি মরিচ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় মিলছে মাত্র কয়েকশ গ্রাম। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাঁচামাল আড়ত ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মরিচের এই অস্বাভাবিক দাম। বাজারে এখন মরিচ কেনা বিলাসিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে বীরগঞ্জের পাইকারি আড়তগুলোতে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়ত থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সেই মরিচের দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, আগে মানুষ এক কেজি বা আধা কেজি করে মরিচ কিনলেও এখন দামের কারণে বেশিরভাগ ক্রেতা ৫০ বা ১০০ টাকার মরিচ কিনছেন। আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
আড়তদার আরিফুজ্জামান জীবন দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। চাহিদা অপরিবর্তিত থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক জানান, গত কয়েকদিন ধরে দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। পুরাতন ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের মতে, কৃষিপণ্য হওয়ায় কাঁচা মরিচের বাজার সবসময়ই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল, তাই সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।
দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। রিকশাচালক আব্দুল মতিন বলেন, আগে ২০-৩০ টাকায় যে মরিচ পাওয়া যেত, এখন সেই টাকায় খুব সামান্যই মিলছে। বাজারের নিয়মিত ক্রেতা রাশেদুন নবী বাবু ও গৃহিণী রহিমা বেগম জানান, তেল, পেঁয়াজ ও ডালের পর মরিচের এই দাম সংসার চালানো কঠিন করে তুলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎপাদন এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি সংকট মিলিয়েই মরিচের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাঁচামাল আড়ত ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে একটাই আলোচনা মরিচের ঝাল নয়, ঝাল এখন দামে। ক্রেতারা হাতে ছোট ছোট পলিথিন নিয়ে মরিচ কিনছেন ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ গ্রামের হিসাব করে। বিক্রেতাদের সামনেও ভিড় থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতা দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
বর্তমানে বীরগঞ্জের আড়তগুলোতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৬০-২৮০ টাকায়। সেই মরিচ খুচরা বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম দাঁড়াচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে পণ্যটি অনেক কম দামে পাওয়া যেত, সেটিই এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একপ্রকার বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :