Facebook Twitter Instagram YouTube

সয়াবিন তেলেও মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগে জনস্বাস্থ্য


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ /
সয়াবিন তেলেও মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগে জনস্বাস্থ্য

দেশের বাজারে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনার রেশ না কাটতেই এবার সয়াবিন তেলেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সন্ধান পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত এবং খোলা—উভয় ধরনের সয়াবিন তেলেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড বিজ্ঞান সাময়িকী 'জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাকে বাংলাদেশে ভোজ্যতেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করছেন গবেষকরা।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে তিনটি ব্র্যান্ডেড ও তিনটি নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খোলা তেলে দূষণের মাত্রা বোতলজাত তেলের তুলনায় ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি এবং বোতলজাত তেলে ৪৮ হাজার ৬৭টি কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দূষণ পাওয়া গেছে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায়।

তেলের নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE), পলিপ্রোপিলিন (PP), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (PET), পলিইউরেথেন (PU) এবং নাইলন শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি বিশ্বে প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হলো। শনাক্ত হওয়া কণার ৮২.৫ শতাংশই ফাইবার বা আঁশজাতীয় এবং ৫৬.২৯ শতাংশ স্বচ্ছ। এছাড়া ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটার আকারের কণা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শুধু সয়াবিন তেল থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি; তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিপাকীয় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে রক্তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খোলা তেলে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ার পেছনে শিল্পকারখানার ঘনত্ব, টেক্সটাইল শিল্পের সান্নিধ্য, পাত্রের বারবার ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। অন্যদিকে বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের ধাপগুলো দূষণের উৎস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh