Facebook Twitter Instagram YouTube

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ সংস্কারে অনিয়ম ও স্থানীয়দের ক্ষোভ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ /
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধ সংস্কারে অনিয়ম ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের উভয় পাশের সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের কাজের নিম্নমান এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নিয়ম অনুযায়ী বাইরের জায়গা থেকে মাটি এনে বাঁধ ভরাট করার কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করছে। পরিবর্তে, বাঁধের গোড়া থেকেই এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে উপরে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন ফেলা মাটি ধসে বাঁধের মূল ভিত্তি আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকায় দেখা গেছে, সংস্কার করা অংশের অনেক স্থানেই নতুন ফেলা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নিচে পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সুগন্ধি থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হলেও, সংস্কারের চেয়ে বাঁধটি এখন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একইভাবে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

প্রকল্পের কাজের তদারকি নিয়েও উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে তৃতীয় পক্ষের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। সুগন্ধি এলাকায় কর্মরত তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধি মো. মাহবুব বলেন, ‘যতটুকু মাটি কেটেছি, সে অনুযায়ী বিল পাব। তবে এ কাজটি নিয়ে আমরা বেশ বিপাকে আছি।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের অধিকাংশ উন্নয়নকাজ স্থানীয়ভাবে সমন্বয় ও তদারকি করেন মিয়া মঞ্জুর আমীন স্বপন। তার বিরুদ্ধে পাউবোর স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শামীম মিয়া কাজের তথ্য না দিয়ে উল্টো বিষয়টি মঞ্জুর আমীন স্বপনকে জানান। তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর মঞ্জুর আমীন স্বপন জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি নেমে গেছে এবং কাজ শেষ হওয়ার আগে সব ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে যতবার মাটি সরবে, ততবারই ভরাট করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পাউবো বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, ‘মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। যেখানে ক্ষতি হবে, সেখানেই আবার মাটি দেওয়া হবে।’ এছাড়া শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে বাঁধের গোড়ার মাটি কাটার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, এতে কোনো সমস্যা নেই।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy