Facebook Twitter Instagram YouTube

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে পদে পদে ভোগান্তি


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ /
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে পদে পদে ভোগান্তি

রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ১০ টাকার টিকিট সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই হাসপাতালের সামনে শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করছেন। টিকিট পাওয়ার পরও চিকিৎসক দেখানো, ইসিজি বা অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সবশেষে রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য রোগীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে রিপোর্ট না পাওয়ায় রোগীদের বারবার হাসপাতালে আসা-যাওয়ার বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

গাজীপুর, সাভার ও ডেমরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, সাধারণ ছানি অপারেশনের মতো ছোটখাটো চিকিৎসার জন্যও তাদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। নির্ধারিত দিনে চিকিৎসক দেখাতে ব্যর্থ হলে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু করতে হয়, যা রোগীদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও প্রভাব খাটিয়ে বা পরিচিতির মাধ্যমে অনেকে আগে সেবা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর রহমান সোহেল জানান, এটি দেশের একমাত্র ২৫০ শয্যার তৃতীয় স্তরের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি নতুন এবং প্রায় দুই হাজার পুরোনো রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এতে প্রতিটি চিকিৎসককে দৈনিক ১২০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০০টি ইসিজি সম্পন্ন করা হয়। রোগীদের শারীরিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় রিপোর্ট দিতে সময়ক্ষেপণ হয়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমাতে জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোতে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে ১০ তলা নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din