
ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষ সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ১০ হাজার ৬৫০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তি ছিলেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে শরীরে তাপঘাত, পানিশূন্যতা এবং হৃদ্রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বৃদ্ধির ফলে এই অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু খুবই অস্বাভাবিক।
ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে বেশি। বেলজিয়ামের জন্য গত পঁচিশ বছরের মধ্যে এটি তাপপ্রবাহজনিত সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন না হলে এমন ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। পৃথক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দায়ী। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :