Facebook Twitter Instagram YouTube

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ /
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম

প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ধারা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সঠিক পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজনের ভারসাম্য। এছাড়া পুষ্টির পর্যাপ্ততা শিশুর শেখার সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। মূলত, শিশুপুষ্টির উন্নয়নই একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাসে পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জীবনের শুরুতে শিশু মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমেই প্রাথমিক পুষ্টি লাভ করে। ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্যের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই অপুষ্টির কারণে শিশুরা খর্বকায় ও কৃশকায় হয়ে পড়ছে। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। এই সংকট থেকে উত্তরণে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, উন্নত পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা এবং মাতৃদুগ্ধ পানে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখতে পুষ্টি অপরিহার্য। এক্ষেত্রে দুধ একটি অতুলনীয় খাবার, যা দেহ গঠনের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের প্রধান উৎস। শিশু থেকে শুরু করে বাড়ন্ত বয়সী, অন্তঃসত্ত্বা এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রতিদিন দুধ পান করা অত্যন্ত জরুরি। এটি শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধে সহায়তা করে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পুষ্টির অভাব দূর হলে তারা শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল করতে পারে এবং খর্বাকৃতি বা ওজন স্বল্পতার মতো শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পায়। বাংলাদেশে অপুষ্টির মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, পুষ্টি বিষয়ক অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। অধিক জনসংখ্যার চাপে খাদ্যদ্রব্যের সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্বাভাবিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার সচ্ছল পরিবারের অনেক শিশুও জাঙ্কফুড গ্রহণের ফলে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

পুষ্টিকর খাবার কেবল ক্ষুধা নিবারণ করে না, বরং এটি শরীরের জন্য ঔষধের মতো কাজ করে। তবে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। দেশে খাদ্যাভাব কমে এলেও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে, যা নতুন নতুন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেকের ধারণা, কেবল মাংস ও দুধ খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। প্রকৃতপক্ষে সুষম খাবারের জন্য মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, সবজি ও ফলমূলের সমন্বয়ে খাদ্যের সবকয়টি উপাদানের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাস অন্তর ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং সম্পূরক খাবারের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে ভাতের পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি ও দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। পুষ্টিমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin