Facebook Twitter Instagram YouTube

মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ /
মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা, রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু

ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকের মধ্যেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে স্বীকার করার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ইরানের সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই সিআইএ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সংঘাতের তৃতীয় দিনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে ৬ মার্চ সিএনএন জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহযোগিতা করছে মস্কো।

সর্বশেষ বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ড্রোন হামলার কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা বিশ্লেষণ করে এতে রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু করেছে। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত। তার মতে, ইরানের নিজস্ব মহাকাশ সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইরানের নিজস্ব হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইরান শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে। গত বছর উভয় দেশ ২০ বছরের কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করলেও রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো দাবি করেছিলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়া কোমেটা-এম নামক অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, রাশিয়া ও ইরান একে অপরকে একই ধরনের বৈশ্বিক হুমকির মুখে থাকা অংশীদার মনে করে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে, কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। গ্রায়েভস্কির ভাষ্যমতে, রাশিয়ার সহায়তা ইরানের সক্ষমতাকে কিছুটা বাড়িয়ে দিলেও, ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh