
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ১৭ জুন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও সংঘাত বন্ধে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা আর মানবে না বলে দুই দেশই জানিয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ওই চুক্তির শর্ত মেনে চলবে না। শনিবার ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার শর্ত ভঙ্গ করায় এটি প্রমাণিত যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অকার্যকর’। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তেহরান চুক্তির সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।
এদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও দু-তিন দিন এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তারা ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও নৌ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
গত ১০ দিনে খুজেস্তান প্রদেশের ১২টি শহরের ৯৫টি স্থানে মার্কিন হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন এবং সেখানে ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।
ইরানও এর পাল্টা জবাব দিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে হামলা শুরু করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কুয়েতের কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করতে হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সেতু এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও হামলা চালানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে প্রায় তিন মাস পর সৌদি আরবের রিয়াদের কাছে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ও ইয়ানবু এলাকায়ও হামলা হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :