
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১৭ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহারের সুযোগে ইরান চীনের কাছে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে। ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে, নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে গত ৭ জুলাই সেই নিষেধাজ্ঞা আবারও কার্যকর করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার এই ২০ দিনের ব্যবধানে, বিশেষ করে ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে, ইরান প্রায় ২০টি ট্যাংকারে করে প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল চীনের বিভিন্ন বন্দরে পাঠায়। এই তেল মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় রুট ব্যবহার করে সরবরাহ করা হয়। বর্তমান বাজারদরে এই তেলের মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ১৯৭৯ সালে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে আরও কঠোর করা হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে ইরানি ট্যাংকারগুলো সাধারণত দক্ষিণ চীন সাগরের ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল)’ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে অপেক্ষমাণ চীনা ট্যাংকারে জাহাজ-থেকে-জাহাজে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল স্থানান্তর করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে এই পদ্ধতিতেই চীন ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি করে আসছে।
তবে, ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোর ওপরও অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দর থেকে নতুন করে কোনো জাহাজ ছাড়তে পারছে না, আবার বাইরে থাকা জাহাজগুলোরও বন্দরে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :