
গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে ইসরাইল প্রতিনিয়ত নতুন মাটির দেয়াল এবং কনক্রিটের বেড়া তৈরি করছে। সামরিক বাহিনীর এই কর্মকাণ্ডের ফলে গাজার শত শত পরিবার আবারও ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' বা হলুদ সীমানা গাজার ভেতরের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের বসবাসের স্থানকে ক্রমাগত সংকুচিত করে তুলছে।
উত্তর গাজার আল-তুফাহ এলাকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেছেন যে, তাদের প্রধান সড়ক সালাহ আল-দিনের ওপর থাকা হলুদ রঙের কনক্রিটের ব্লকগুলোকে আগের তুলনায় পশ্চিম দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেখানে প্রায় তিন মিটার উঁচু বিশাল মাটির বাঁধ তৈরি করে ইসরাইলি পতাকা উড়ানো হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত মোহাম্মদ আল-শাওইশ জানান, বোমার আঘাতে তার বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকেও সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেই তাঁবুটিও হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরাইলি বাহিনীকে নির্দিষ্ট সীমানার পেছনে অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজার ৫৩ ভাগ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, তাদের বাহিনী বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং একে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ৪২ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে ইসরাইল মাটির বাঁধ ও সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের রাস্তা পরিষ্কার করতে খান ইউনূস, দেইর আল-বালাহ ও জেইতুন এলাকায় নিয়মিত বুলডোজার চালানো হচ্ছে। এতে হাজারো ঘরবাড়ি, গ্রিনহাউস ও শতবর্ষী জলপাই বাগান ধ্বংস করা হচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্থায়ী আশ্রয়ের অভাবে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং নিত্যদিনের এই স্থানান্তরের কারণে ফিলিস্তিনিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :