Facebook Twitter Instagram YouTube

অন্যায় ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলতে পারে না: ডা. শফিকুর রহমান


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ /
অন্যায় ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলতে পারে না: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, অন্যায় এবং জামায়াতে ইসলামী কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না। নৈতিকতার প্রশ্নে দল কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার ষান্মাসিক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, আমরা মানুষ হিসেবে ভুল-ত্রুটি করতে পারি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি যে, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসাথে চলে না। যারা দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো অন্যায় বা অপরাধ থাকলে তা ধরিয়ে দিলে আমরা তা সংশোধন করে নেব।

দলীয় সহকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে তা দ্রুত দৃশ্যমান হয়, তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নশীল হতে হবে। কোনো লঙ্ঘন হলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অপরাধের মাত্রা যদি বড় হয় তবে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হওয়া হবে না। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নফসের ধোঁকা ও শয়তানের ওয়াসওসা থেকে বাঁচতে সর্বক্ষণ আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনা থেকে শুরু করে পিলখানা, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় কেন্দ্রিক হত্যাযজ্ঞ, শাপলা চত্বর এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে তিনি ধারাবাহিকভাবে গণহত্যার অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

৩১ জুলাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সরকারি ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। বিএনপি ও জনগণের রায়কে অপমান করার প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করে সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাতে চাই না, তেমনি অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জামায়াত সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বিশ্বাসী।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তারা সবাই দলের আদর্শিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, দিশাহার সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে ৩১ জুলাই জামাতকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। তবে সেদিন না করে ১ আগস্ট নিষিদ্ধ করে। আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি এবং দেশবাসীকে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh