Facebook Twitter Instagram YouTube

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একা লড়তে চায় জামায়াত, অন্য দলগুলোর ভিন্ন চিন্তা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ /
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একা লড়তে চায় জামায়াত, অন্য দলগুলোর ভিন্ন চিন্তা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বর নাগাদ এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে বলে জানা গেছে। ১০ থেকে ১২ মাসে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একসময়ের বিএনপি জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার চিন্তা করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত কয়েকটি দলের। ১০টি আসনে সমঝোতা হলেও দলটির দাবি ছিল আরও বেশি। জামায়াতের নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসনভিত্তিক নয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ২০ জুলাই জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল, যা স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভব নয়। তবে তিনি যোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্র থেকে কোনো বাধা থাকবে না।

জামায়াতের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ১১-দলীয় ঐক্যের অন্তর্ভুক্ত অন্য কয়েকটি দলের ভাবনা ভিন্ন। সর্বশেষ ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস সিদ্ধান্ত জানায়, তারা আর ১১–দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। খেলাফত মজলিসের নেতারা বলছেন, তাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস মনে করে, জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তারা বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার চেষ্টা করছে এবং এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, তারা সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জোটবদ্ধভাবে করতে চান, তবে জামায়াত এককভাবে গেলে বিকল্প ভাবতে হবে।

এদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তিনি জামায়াতের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ২১ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি আপাতত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংগঠনিক অবস্থান এবং প্রার্থীদের পরিচিত করার চেষ্টা করছে। তবে জামায়াত একই পদে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রস্তুত করছে, যার ফলে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এনসিপি আপাতত একক প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিলেও তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সমঝোতার পথ খোলা রাখছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মনে করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও স্থানীয়ভাবে কিছু অঞ্চলে সমঝোতা হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo