
যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক নৈশভোজ ও বৈঠকের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর মিত্রদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও, এতে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির অন্যতম মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শরিক দল হিসেবে তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দাওয়াত পেয়েছেন। তবে দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তারা এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। যদিও বৈঠক বর্জনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তারা জয়লাভ করতে ব্যর্থ হন।
নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি তাদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জমিয়ত নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি, এমনকি কোনো কুশল বিনিময় বা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজনও করা হয়নি। জোটের অন্যান্য শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও জমিয়তকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ানো এবং খোলামেলা আলোচনার উদ্দেশ্যে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যে দলগুলো বিলুপ্ত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে, তাদেরও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
আপনার মতামত লিখুন :