Facebook Twitter Instagram YouTube

দুর্ঘটনার সময় মুমিনের করণীয় ও আল্লাহর ওপর আস্থার গুরুত্ব


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৭, ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ /
দুর্ঘটনার সময় মুমিনের করণীয় ও আল্লাহর ওপর আস্থার গুরুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুনিয়া মুমিনের জন্য পরীক্ষাস্থল এবং আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই বান্দাদের ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করবেন এবং ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ ও দুর্ঘটনা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা, যা মানুষের ঈমান ও তাকওয়া যাচাই করে।

দুর্ঘটনার সময় হতাশ না হয়ে একজন মুমিনের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা। রাসুল (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমান কোনো কষ্ট, অসুখ, উদ্বেগ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্ণতায় পতিত হলে, এমনকি তার শরীরে কোনো কাঁটা বিঁধলেও আল্লাহ তাতে তার গুনাহ মাফ করে দেন (বোখারি : ৫৬৪১)। অর্থাৎ দুর্ঘটনার মাধ্যমে কষ্ট দিলেও আল্লাহ এর বিনিময়ে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন, যা পরকালীন মুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নবী-রাসুলদের জীবনেও বিভিন্ন পরীক্ষার নজির রয়েছে। ইউসুফ (আ.)-কে কূপে ফেলা ও দাস হিসেবে বিক্রি করা, আইয়ুব (আ.)-এর দীর্ঘ ১৮ বছরের রোগভোগ এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে উহুদ যুদ্ধ, তায়েফের ঘটনা ও স্বজনদের বিয়োগান্তক ঘটনা সবই ছিল কঠিন পরীক্ষা। আল্লাহ বলেছেন, আপনি কি মনে করেন যে, আপনি ঈমান আনবেন এবং পরীক্ষা করা হবে না? (সুরা আনকাবুত : ২)।

দুর্ঘটনার সময় একজন মুসলমানের চারটি করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়া, যা সুরা বাকারার ১৫৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী সুন্নত এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ধৈর্য ধারণ ও সালাত কায়েমের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া। তৃতীয়ত, আল্লাহর ফয়সালায় পূর্ণ আস্থা রাখা এবং চতুর্থত, দোয়া করা, কারণ হাদিস অনুযায়ী দোয়া ভাগ্যও পরিবর্তন করতে পারে।

দুর্ঘটনা কখনো শাস্তি, আবার কখনো পরিশুদ্ধির মাধ্যম হতে পারে। যদি গুনাহের কারণে বিপদ আসে তবে তা শাস্তি, আর যদি ঈমানদার ব্যক্তি ধৈর্যসহকারে বিপদে থাকেন তবে তা রহমত। রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিনের সব অবস্থাই কল্যাণকর; সুখে শুকরিয়া এবং বিপদে ধৈর্য—উভয়ই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে (মুসলিম : ২৯৯৯)।

ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার বাইরে সামাজিক পর্যায়ে আমাদের করণীয় হলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, দোয়া ও সহযোগিতা করা, সতর্কতা অবলম্বন করা এবং তওবা ও ইসতেগফার বৃদ্ধি করা, কারণ সমষ্টিগত গুনাহ আল্লাহর গজব ডেকে আনতে পারে। পরিশেষে, দুর্ঘটনাকে আত্মিক উন্নতির সোপান হিসেবে গ্রহণ করে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করাই একজন বিশ্বাসীর কাজ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh