
বাংলাদেশের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত স্থানে ক্ষুদ্র হকার ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য বৃটেনের আদলে একটি হকার লাইসেন্সভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটপাত হকার ব্যবসা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ফুটপাতকে ব্যবসায়িক স্থানে পরিণত করা নয়, বরং জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা। ব্যবসার অনুমতি হবে কেবল নির্দিষ্ট, সীমিত, অস্থায়ী এবং প্রত্যাহারযোগ্য বাণিজ্যিক ব্যবহার হিসেবে, যার মাধ্যমে কোনো স্থায়ী দখল বা মালিকানা সৃষ্টি হবে না।
প্রস্তাবিত এই কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ হকারদের লাইসেন্স প্রদান করবে। কর্তৃপক্ষ প্রতিটি অনুমোদিত ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট স্থান, আয়তন, ব্যবসার ধরন ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবে। লাইসেন্সধারীকে নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের জন্য মাসিক ভাড়া বা ফি সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবে না এবং নিয়ম অমান্য করলে জরিমানার বিধান থাকবে।
পথচারীদের চলাচলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যে এলাকায় ব্যবসা স্থাপনের ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলের পথ বন্ধ বা গুরুতরভাবে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে কোনো লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোন কোন এলাকায় ব্যবসা করা যাবে এবং কোথায় তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে, তা পূর্বনির্ধারিতভাবে ঘোষণা করবে। প্রতিটি অনুমোদিত স্থানের জন্য সর্বোচ্চ কতটুকু জায়গা ব্যবহার করা যাবে এবং কোন সময় পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
প্রতিটি হকারকে কিউআর কোড-সম্বলিত ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল লাইসেন্স কার্ড প্রদান করা যেতে পারে। এই কোড স্ক্যান করলে ব্যবসায়ীর নাম, লাইসেন্স নম্বর, ব্যবসার ধরন, অনুমোদিত স্থান, আয়তন, মাসিক ভাড়া, সময়সীমা এবং অন্যান্য শর্ত তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এটি সাধারণ জনগণ ও এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বৈধতা যাচাই সহজতর করবে।
ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা বা শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখা যেতে পারে। গুরুতর বা পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং অবৈধ স্থাপনা বা পণ্য অপসারণের ব্যবস্থা রাখা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :