Facebook Twitter Instagram YouTube

মৃত্যুর আগে নিজের শোকবার্তা লিখে অনন্য নজির গড়লেন মাইকেল


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ /
মৃত্যুর আগে নিজের শোকবার্তা লিখে অনন্য নজির গড়লেন মাইকেল

মৃত্যুর পর সাধারণত স্বজন বা বন্ধুরা শেষ বিদায়ের কথা লিখে থাকেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বাসিন্দা মাইকেল ডি সিমোন ব্যতিক্রমী এক নজির স্থাপন করেছেন। ৫১ বছর বয়সী এই সাবেক সেনাসদস্য মৃত্যুর আগেই নিজের শোকবার্তা লিখে রেখে গেছেন। ২১ আগস্ট হৃদ্‌যন্ত্রজনিত সমস্যায় মারা যাওয়ার আগে তিনি এই শোকবার্তাটি লিখে যান, যা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নিজের লেখা শোকবার্তার শুরুতে মাইকেল ডি সিমোন হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে জানান যে, তিনি আর জীবিত নেই। তিনি লিখেছেন, এটি তার পরিকল্পনা ছিল না এবং তিনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার আশা করেছিলেন। তবে তার শরীর ও মনের মতবিরোধে শেষ পর্যন্ত শরীরের যুক্তিই জয়ী হয়েছে বলে রসিকতা করেন তিনি। নিজের শেষ মুহূর্ত নিয়েও তিনি লিখেছেন, পৃথিবীতে যেভাবে খাবার খেতে খেতে এসেছিলেন, সেভাবেই পিজ্জা খেতে খেতে পৃথিবী ছেড়েছেন। ৫১ বছর বয়স নিয়ে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, অনেক অনেক কুকুরকে তিনি টিকে গেছেন, যা তাকে শান্তি দিয়েছে।

ভ্রমণপিপাসু মাইকেল বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ ভ্রমণ করেছেন, শুধু অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া। এই ভ্রমণকে তিনি ১২ শতকের কোনো অভিজাত ব্যক্তির অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। শোকবার্তার আবেগপূর্ণ অংশে তিনি তার স্ত্রী ডেইজি এবং দুই মেয়ে জোহানা ও ডানির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। স্ত্রীকে তিনি তার ‘প্রিয়তমা’ বলে সম্বোধন করে জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্কের ভালোবাসা কখনো ম্লান হয়নি। তবে প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কষ্টও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

শোকবার্তার শেষ দিকে নিজের মৃত্যুর খবর নিজেকেই দিতে হওয়া নিয়ে রসিকতা করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দ্য সেন্ট্রালিয়া ক্রনিকল শোকবার্তাটি প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে জীবনের অন্যতম সেরা ও ব্যতিক্রমী শোকবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনের সেন্ট্রালিয়ায় মাইকেল ডি সিমোনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তার নিজের লেখা শেষ কথাগুলো এখন তার জীবন, রসবোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হয়ে উঠেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh