Facebook Twitter Instagram YouTube

বেতন নিয়ে টালবাহানা ও আটকে রাখা ইসলামে জঘন্য অপরাধ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ /
বেতন নিয়ে টালবাহানা ও আটকে রাখা ইসলামে জঘন্য অপরাধ

ইসলামের দৃষ্টিতে মালিক ও কর্মচারীর সম্পর্ক অনেকটা ভাই-ভাইয়ের মতো, এমনকি কর্মচারীকে মালিকের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন কর্মচারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। মহানবী (সা.) এই সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝাতে বলেছেন, তোমাদের অধীনস্থ কর্মচারীরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। সুতরাং কারো ভাই যদি তার অধীনে কাজ করে, তবে সে নিজে যা খায় তাকেও তা খেতে দেওয়া এবং নিজে যা পরিধান করে তাকেও তা পরিধান করানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি (বোখারি: ২৫৪৫)।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও স্নেহের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। প্রত্যেকেরই একে অপরের কাছে কিছু প্রাপ্য রয়েছে এবং ইসলাম উভয়কেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে বলেছে। কর্মচারীর প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিয়ে গড়িমসি বা টালবাহানা করা নিচু মানসিকতার পরিচয় এবং এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। রাসুল (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশ হলো, কর্মচারীর গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করে দিতে হবে।

বেতন আটকে রাখা বা অকারণে তা না দেওয়াকে ইসলামে জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিনি নিজে তিন ধরনের ব্যক্তির বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, যার মধ্যে একজন হলো সেই মালিক যে কাউকে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছে কিন্তু তার প্রাপ্য মজুরি বুঝিয়ে দেয়নি (বোখারি: ২২২৭)।

কর্মচারীর বেতন পরিশোধে ধনী ব্যক্তির টালবাহানা করাকে সরাসরি জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাসুল (সা.)। জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি উম্মতকে অসিয়ত করে গেছেন, তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh