Facebook Twitter Instagram YouTube

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে মির্জা ফখরুল


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ /
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার পদত্যাগ করার পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গভবনের এই সর্বোচ্চ সম্মানিত পদে কে বসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম আলোচনায় এলেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন দলটির প্রাজ্ঞ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও দূরদর্শিতার কারণে দল ও দলের বাইরে তিনি পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন।

বিএনপির একটি বড় অংশ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংকটের সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন অভিভাবক হিসেবে তার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মির্জা ফখরুল শুধু বিএনপিরই প্রথম পছন্দ নন, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি এক আস্থার নাম। তবে এই বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইবে যিনি সংকটে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল নিজে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছানো এবং মুখপাত্র হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার শান্ত রাজনৈতিক কৌশল ও সুচিন্তিত বক্তব্য সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন। এই ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাই তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দৌড়ে শীর্ষে রেখেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তার দেশত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। গত শুক্রবার মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ আলোচনায় আসছে। প্রথমত, ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতনের শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া—এই তিনটি বিষয়ই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। দ্বিতীয়ত, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা। তৃতীয়ত, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ না থাকা।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং অন্য কমিশনাররা। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে পাঠানো হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh