Facebook Twitter Instagram YouTube

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ, রাস্তায় নেতাদের অবস্থান


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ /
বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ, রাস্তায় নেতাদের অবস্থান

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকালে উপজেলার মুছাই নামক এলাকায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। বাধা পাওয়ার পর এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বসে পড়েন এবং প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ জানান, জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করায় নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের প্রথম দফায় আটকে দিয়েছিল, তবে তারা সেই ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।

এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই বহরে ছিলেন।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বুধবার সকাল থেকে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া শান্তি বজায় রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার হামলার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, তারা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন, তবে ১৪৪ ধারা জারির পর আইন মেনে কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টির প্রতিবাদে বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা জাতিকে অবহিত করবেন। তিনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে অপরপক্ষকে অশালীন বক্তব্যের বিষয়ে সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসে যাবার পথে সবুজবাগ এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে আশ্রয় নেন এবং দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor