Facebook Twitter Instagram YouTube

সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ /
সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আজ অথবা দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশন চলাকালীন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন বসার প্রস্তুতি চলছে এবং ওই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। তার দেশে ফেরার পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছিল। বঙ্গভবনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে রাখা হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পদত্যাগের পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রগুলো দাবি করছে, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে গোপন ফোনালাপের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ এবং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে সরকারের কোনো অফিশিয়াল ভাষ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে বিভিন্ন সময় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা তিনি প্রকাশ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor