Facebook Twitter Instagram YouTube

আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় প্রিন্স মামুনের জামিন নামঞ্জুর


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ /
আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় প্রিন্স মামুনের জামিন নামঞ্জুর

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলায় গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার আদেশ দেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তীতে শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চৌধুরী রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত সোমবার (২৭ জুলাই) ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াউর রহমান ঢাকার আদালতে প্রিন্স মামুনকে এই মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছিলেন। যৌতুকের মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার এই মামলাটি করেন তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারায় নিজ বাসায় ফেসবুক লাইভে আসেন প্রিন্স মামুন। লাইভ চলাকালে তিনি তার স্ত্রী মোহনার ব্যবহৃত একটি শাড়ি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। ওই সময় তিনি নিজের এই চরম পদক্ষেপের জন্য স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। ফেসবুক লাইভটি দেখে মোহনা, তার মা, আত্মীয়-স্বজন এবং মামুনের বাবা-মা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, একই দিন সকালে মোহনা তার স্বামীর বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ চৌধুরী রায় আদালতে যুক্তি দেন যে, দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারার অভিযোগের উপাদান এ ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যদি প্রিন্স মামুনকে আসলেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হতো কিংবা বিষপানের পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হতো, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বর্তমান ঘটনার বাস্তবতা সেরকম নয়। তিনি আরও জানান, আদালত জামিন নামঞ্জুর করায় তারা এখন উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় আবেদন করবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor