
দীর্ঘদিন ধরে খুলনা নগরবাসী জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন। বর্ষা মৌসুমে নগরীর অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হতো। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাস থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার থোক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৪০টি প্যাকেজের সংস্কারকাজ বর্তমানে সম্পন্ন বা চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলোকে দ্রুত সংস্কার করা।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মতে, অতীতের নিয়মিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি ছোট সংস্কারকাজ শুরু করতেই দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগে যেত, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন বছরের পর বছর অবহেলিত থাকত। বর্তমানে সরকারি ক্রয়বিধি বা পিপিআর অনুযায়ী জরুরি ও সীমিত ব্যয়ের কাজ সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই নতুন পদ্ধতির ফলে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে এই ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং নাগরিক ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :