
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে অর্থাৎ রাত ৩টার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ দল এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে ডেভিড ইমন একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন। ধীরে ধীরে তিনি সাজ্জাদের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বর্তমানে ডেভিড ইমন দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই তিনি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে গুলি বা হামলার ঘটনা ঘটত। গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রামের চকবাজারের ডিডিএন নামক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে তিনি দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং পরবর্তীতে প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার হুমকি দেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঘটনার দুই দিন পর ১৩ জুলাই দুপুরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ওই ইন্টারনেট কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ত্রাসীরা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও আসবাবপত্রসহ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় এবং দুর্বৃত্তরা ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি ক্যানন প্রিন্টার ও কর্মচারীদের বেতনের প্রায় ৩৫ লাখ টাকাসহ পরিচালকের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এর আগে র্যাব ও পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সর্বশেষ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তির সহায়তায় দুবাই থেকে চাঁদাবাজি ও নাশকতার মূল হোতা ডেভিড ইমনকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো।
আপনার মতামত লিখুন :