প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৫৩ আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৫৮। পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি ব্লেম গেম। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও সখ্যের অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যেই সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায়। সরকারি দলের দাবি, দেশ অস্থিতিশীল করতে বিরোধী দলই নেপথ্যে থেকে আওয়ামী লীগকে উসকানি দিচ্ছে এবং শিল্পাঞ্চলগুলোয় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাদের চাপে রাখতে সরকারি দলই পরিকল্পিতভাবে ‘আওয়ামী জুজু’র ভয় দেখাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছে। যদিও এ অভিযোগের সপক্ষে অকাট্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সরকারপ্রধান জানিয়েছেন তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশক স্বৈরাচারী শাসনে নিষ্পেষিত রাজপথের দুই পুরোনো সহযাত্রী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে পরস্পরকে ঘায়েল করতে এই ‘আওয়ামী কার্ড’ ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই দোষারোপের রাজনীতি বিতাড়িত শক্তির জন্যই লাভজনক। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এবং সরকারের মধ্যে জুলাই সনদ, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে আর সহযোগিতা না করার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এরই মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সরকারি দলের অভিযোগ, এসব আন্দোলনের পেছনে বিরোধী দলের ইন্ধন রয়েছে এবং তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের পাল্টা দাবি, সরকারই বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একজোট করে তাদের দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও উভয় দলের বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগকে ‘কাছে টানার’ অভিযোগ উঠেছিল। সেসময় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতির মতো ঘটনাও ঘটেছিল। সম্প্রতি ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর এবং শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মঙ্গলবার রাজশাহীর এক অনুষ্ঠানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরের একটি পক্ষ তাদের সহায়তা করছে।
এর জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার অভিযোগ করেন, দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিএনপি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পরাজিত শক্তি ও একটি গুপ্ত দল অপপ্রচারে লিপ্ত এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে। বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাবুল হক ও অধ্যাপক তারেক ফজল মনে করেন, অভিযোগের প্রমাণক উপস্থাপন করা প্রয়োজন, অন্যথায় এই অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামী লীগ নতুন করে ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজে পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :