
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি সামরিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর প্রতীকী গুরুত্বকে অনেকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এই জোটটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত শর্তটি হলো, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে এই শর্তের মিল থাকায় বিশ্লেষকদের কেউ কেউ একে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে অভিহিত করছেন। তবে এই জোট বাস্তবে ন্যাটোর মতো সামরিক কাঠামো হিসেবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জোটের প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক শক্তি রয়েছে। তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং উন্নত যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি। পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ, যাদের সেনাবাহিনী চীনা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রাখে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান—একদিকে আরব উপসাগর ও অন্যদিকে লোহিত সাগর—জোটটিকে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।
এই নতুন জোটটি ইরান বা ইসরাইলকে প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাজায় সংঘাতের পর ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। যদিও জোটের নেতারা দাবি করছেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বাস্তব কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং পাকিস্তান চীনের সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশগুলোর পূর্বের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে নতুন জোটের জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতীতে সৌদি আরবের হুথি বিদ্রোহী বিরোধী যুদ্ধে বা ইরান-সৌদি উত্তেজনার সময় পাকিস্তানের সরাসরি সামরিক সহায়তা না দেওয়ার ইতিহাসও রয়েছে। ফলে এই জোটের সফলতা কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব কোনো হামলার মুখে দেশগুলোর গৃহীত পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে।
আপনার মতামত লিখুন :