Facebook Twitter Instagram YouTube

ক্লাবহীন সালাহ, ইকার্দি ও সানচো: বর্তমান ফুটবলে এক অদ্ভুত চিত্র


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ /
ক্লাবহীন সালাহ, ইকার্দি ও সানচো: বর্তমান ফুটবলে এক অদ্ভুত চিত্র

মোহাম্মদ সালাহ, জাডন সানচো, মাউরো ইকার্দি এবং দুসান ভ্লাহোভিচ—যাঁদের নাম গত এক দশক ধরে ইউরোপের বড় বড় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটে জ্বলজ্বল করেছে, তাঁরা এই মুহূর্তে ক্লাবহীন অবস্থায় আছেন।

মিসর জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর ক্যারিয়ারের গল্পটা বেশ সংগ্রামের। ১৯৯২ সালের ১৫ জুন মিসরের বাসইয়ুন শহরের নাগরিগ গ্রামে জন্ম নেওয়া সালাহ ছোটবেলা থেকেই ভাইয়ের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন। নিজের প্রতিভা বিকাশে তিনি বেছে নিয়েছিলেন কঠিন পথ। গ্রাম থেকে আধা ঘণ্টা দূরের ক্লাবে যোগ দিয়েও তৃপ্ত না হয়ে তিনি দেড় ঘণ্টা দূরের তান্তার ক্লাবে নাম লেখান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে কায়রোর আরব কন্ট্রাক্টরসে (এল মোকাওলুন) যোগ দেওয়ার পর তাঁর রুটিন ছিল অত্যন্ত কঠোর। প্রতিদিন গ্রাম থেকে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে অনুশীলনে যেতেন, কখনো কখনো তিনটি বা চারটি বাস বদলাতে হতো। সকাল সাতটায় স্কুলে ঢুকে নয়টায় ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন এবং অনুশীলন শেষে রাত ১০টা বা সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরতেন। এই কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের মাধ্যমে।

২০ বছর বয়সে ইউরোপে পাড়ি জমানো সালাহ এফসি বাসেলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত খেলে বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন। ২০১৪ সালে মাত্র ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসি তাঁকে দলে নিলেও দেড় মৌসুমে খেলার সুযোগ ও গোল না পেয়ে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমান। রোমার হয়ে দুর্দান্ত দুই মৌসুম তাঁকে পাদপ্রদীপের আলোয় ফিরিয়ে আনে এবং গতির কারণে তিনি ‘মিসরের মেসি’ নামে পরিচিতি পান। ২০১৭ সালে ৪২ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুল তাঁকে ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে আনে। লিভারপুলের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই সালাহ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় হন এবং এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে তিনবার মাসের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরবও অর্জন করেন তিনি।

সালাহর বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ লিভারপুল সমর্থকেরা তাঁকে নিয়ে গান বেঁধেছে। প্রিমিয়ার লিগে ফেরার পর তিনি এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোলের রেকর্ড এবং আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগেও তিনি আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৩ সালে বিয়ে করা সালাহর এক কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে পবিত্র নগরী মক্কার নামে। সালাহ নিয়মিত ইসলাম ধর্মচর্চা করেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের গ্রুপে থাকা মিসর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে পুরো দেশ সালাহর বাঁ পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

মোহাম্মদ সালাহ মিসর জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড। মো সালাহ নামেই বেশি পরিচিত এই ফরোয়ার্ড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলে খেলেন। বিশ্বকাপে মিসরের মূল ভরসা সালাহ ১৯৯২ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। রাশিয়াতে নিজের জন্মদিনেই উরুগুয়ে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে সালাহর। এফসি বাসেলের হয়ে দুটি সুইস সুপার লিগ জয় করা সালাহ ক্যা

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo