Facebook Twitter Instagram YouTube

সিলেটে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র প্রচারণা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ /
সিলেটে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র প্রচারণা

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য এই প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় কিছু মানুষ প্রচারণা চালাচ্ছেন। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মধ্যবর্তী সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি হয়ে আসছে।

প্রতিযোগিতাটি বন্ধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বারইগ্রাম বাজার মসজিদে একটি সভাও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সভার ভিডিওতে কয়েকজন বক্তাকে আয়োজনের বিপক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, নৌকাবাইচের নামে জুয়ার আসর বসানো, নদী ভাঙন, যানজট এবং এলাকার যুবকদের নৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এক বক্তা দাবি করেন, অতীতে এ ধরনের আয়োজনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং এক নারী খুনের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে আয়োজক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম এই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে এই আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, লাউতা ইউনিয়নের মুরব্বিরা বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিকেলে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন। আয়োজক কমিটির আশা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং যথাসময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে নৌকা নিবন্ধনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য গরু ও ছাগল পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, বিষয়টি স্থানীয় একটি ইস্যু এবং এটিকে অতিরঞ্জিত করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এখানে দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে মারামারি ও ফসলি জমির ক্ষতির অভিযোগ থাকায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও জানান, শনিবার বিকেলে তাঁর কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমতি সাপেক্ষে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আয়োজকদের প্রতিযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo