
শিক্ষার্থীদের পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সমন্বয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অভিবাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (OTTI) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের কনফারেন্স হলে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.এস.এম. আমানুল্লাহ এবং অভিবাস টেকনিক্যাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মালেকা পারভীন মোলি এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম, কমিউনিকেশনস এক্সপার্ট গৌতম বড়ুয়া, মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের কোঅর্ডিনেটর মো. সাইফুল ইসলাম শাহীন এবং ওটিটিআইয়ের পরিচালক তামান্না রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে।
এই সমঝোতার আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে জাপানি ভাষা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ডিজিটাল মার্কেটিং, বিউটিফিকেশন ও হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এছাড়া, উভয় প্রতিষ্ঠান শিল্পখাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমিক কারিকুলাম উন্নয়ন ও হালনাগাদে যৌথভাবে কাজ করবে।
শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করতে ইন্টার্নশিপ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উভয় পক্ষ সহযোগিতা করবে। এছাড়া শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে যৌথ গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। এই অংশীদারত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :