
দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চলতি মাসের শেষদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কাজের ব্যস্ততা, সঠিক সময়ে তথ্য না পাওয়া কিংবা সন্তান স্কুলে থাকার কারণে কিছু শিশু নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন শিশু যুক্ত হওয়া এবং কিছু শিশু বাদ পড়ায় শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘাটতির কারণেই কিছু শিশুর মধ্যে এখন হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকেই মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে।
ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বান্দরবানেও শুরুতে টিকা পৌঁছাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে টিকা পাঠিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সিলেটের হাওর অঞ্চলগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠক করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।
গ্রামীণ এলাকার অবৈধ চিকিৎসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে লেবার রুম নেই, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক, অবৈধ ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার চালানো প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা ও জরিমানা করা হচ্ছে। নিজে ঝুঁকি নিয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করছেন জানিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান পুরোপুরি ফেরাতে অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার মান নিয়ে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত এক মাসে আমি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি এবং প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছি। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির কারণে চিকিৎসকদের আচরণ ও হাসপাতালের খাবারের মান উন্নত হয়েছে। অনেক হাসপাতালে তেলাপোকা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব দূর হয়েছে। অন্য কোনো হাসপাতালে সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ, খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উন্নয়নসহ তা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :