Facebook Twitter Instagram YouTube

২১ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ নিয়ে এভিয়েশন গ্রুপ হচ্ছে ইউএস-বাংলা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ /
২১ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ নিয়ে এভিয়েশন গ্রুপ হচ্ছে ইউএস-বাংলা

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত পরিকল্পনানুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫টি নতুন প্রযুক্তির বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ইউএস-বাংলার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, একটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন হিসেবে যাত্রা শুরু করে নিরাপত্তা ও উন্নত সেবা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রূপান্তরিত হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বছরে ২৪ মিলিয়ন যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান এই আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে এই সংযোজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ১৪টি নতুন বোয়িং যুক্ত করছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতের সামগ্রিক মান উন্নয়নে কাজ করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এই চুক্তিটিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ জানান, আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী এই উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ইউএস-বাংলা প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছে। ইউএস-বাংলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে, যা থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে দেশীয় বহরের সক্ষমতা বাড়িয়ে এই মুদ্রা দেশে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্লোবাল এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। এর অংশ হিসেবে দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো পরিবহন, এমআরও সুবিধা, ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম তৈরি করা হবে। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রুটগুলোতে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, কুনমিং, শেনজেন, বেইজিং, সিউল, টোকিও, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালার মতো নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়াতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা। এসব বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালানো হবে। এছাড়া এভিয়েশন শিল্পের টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইউএস-বাংলা নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাডেট পাইলট ও প্রকৌশলী তৈরি করছে এবং পূর্বাচলে একটি বিশ্বমানের এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার ও ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার স্থাপন করছে। ভবিষ্যতে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy