Facebook Twitter Instagram YouTube

দেশে পেপল ও পেওনিয়ার চালুর পথ সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ /
দেশে পেপল ও পেওনিয়ার চালুর পথ সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশে পেপল ও পেওনিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থ স্থানান্তর সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি নতুন ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ বা ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়ারি ফ্রেমওয়ার্ক প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো সরাসরি বিদেশি লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে এই সেবা চালু করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং দেশের লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনার অধীনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ নামের ডিজিটাল ওয়ালেট বা স্টোরড-ভ্যালু অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিতে পারবে। তবে গ্রাহকদের এসব ব্যক্তিগত হিসাব সরাসরি বা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এছাড়া লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সিস্টেমে রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং একটি সমান্তরাল খতিয়ান বজায় রাখতে হবে। কোনো অব্যবহৃত তহবিল থাকলে তা ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং নিয়ম অনুযায়ী ফেরত বা সমন্বয় করতে হবে।

এই নতুন কাঠামোর আওতায় সাধারণ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা পাবেন। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা কিংবা daptorik কাজের ভ্রমণ কোটার অধীনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে। ছোট আকারের আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা ফি পরিশোধের জন্য প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ করা যাবে। এছাড়া প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ ফি, আইটি খাতের খরচ, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও এই ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে।

এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতে এই ডিজিটাল ওয়ালেট সুবিধা দেওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক খরচের জন্য এই ডিভিএ হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা তাদের অর্জিত অর্থ সহজেই দেশে নিয়ে আসতে পারবেন। বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিক বা পর্যটকেরাও দেশি মার্চেন্ট পয়েন্টে কেনাকাটার পেমেন্ট করার জন্য এই সেটেলমেন্ট সুবিধা পাবেন।

তবে এই সেবা চালু করার আগে ব্যাংকগুলোকে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সেবাটি শুরু করার আগে ব্যাংকগুলোকে তাদের বিস্তারিত তথ্য, কারিগরি পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিবরণ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি বা স্বীকৃতি নিতে হবে। এর পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং গ্রাহক যাচাই (কেওয়াইসি) নীতি মেনে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo