
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার মার্কিন বাহিনী দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতুতে মার্কিন বাহিনী আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে বন্দর খামিরে সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বন্দর আব্বাসে পৃথক এক হামলায় এক নারী নিহত ও তার শিশুসন্তান আহত হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানশাহারের একটি বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে, পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে একটি ট্রেন স্টেশন।
এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য শক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও পানি পরিশোধন অবকাঠামো আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং কারিগরি দল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে। কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শার্পনেলের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।
সিরিয়ার তানফে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটিতেও ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে সিরিয়ার সামরিক সূত্রের দাবি, চলতি বছরের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং ইরানি হামলায় ঘাঁটির কাছে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মার্কিন মেরিনরা একটি ট্যাঙ্কার দখল করার পর প্রণালিটিতে আরেকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকেই দুপক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে, যা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি এবং বড় আকারের হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :