Facebook Twitter Instagram YouTube

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ২০ হাজার ডলার ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ /
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ২০ হাজার ডলার ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই নতুন নিয়মে মার্কিন ভিসা পেতে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি মূলত ‘বি১’ ও ‘বি২’ ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, যা সাধারণত ব্যবসা ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা ইস্যু করার শর্ত হিসেবে আবেদনকারীকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন। বন্ডের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারাই নির্ধারণ করবেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, বন্ড নেওয়া ভিসাধারীদের বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ কার্যকর। পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে এই কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাইলট প্রকল্পের সময় বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও, চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের অপশনটি বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই চূড়ান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে এবং এদিনই তা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচি প্রযোজ্য হবে, তার মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পর্যটকদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করবে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অভিবাসন নীতি মুক্তবাক ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। এছাড়া, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট ভিসার আবেদনকারীদের ওপর চড়া ফি ধার্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই–বাছাই বাধ্যতামূলক করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo