Facebook Twitter Instagram YouTube

জিয়াউলের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি আজ ট্রাইব্যুনালে


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ /
জিয়াউলের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি আজ ট্রাইব্যুনালে

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের দুঃশাসনের সময় শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি আজ রোববার নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। এই প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল।

এর আগে গত ২১ জুন জিয়াউলের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তার এক সময়ের দেহরক্ষী সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী হত্যার সঙ্গে জিয়াউল জড়িত ছিলেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী থাকা অবস্থায় তিনি জিয়াউলকে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা করতে দেখেছেন বলে জানান। ইমরুল কায়েসের ভাষ্যমতে, ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামক একটি অভিযানের সময় জিয়াউল ৮-১০ জন বিডিআর সদস্যকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করেন। এরপর তাদের পোস্তগোলা ব্রিজের পাশে আর্মি ক্যাম্পের কাছে নদীতে নিয়ে সিমেন্ট ভরা বস্তার সঙ্গে বেঁধে মাথায় গুলি করে ফেলে দেওয়া হয়।

সাক্ষী ইমরুল কায়েস আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউলের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তখন তার গাড়িতে থাকা অস্ত্র-গুলি তল্লাশি করা হতো না।

জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে তিনি জিয়াউল আহসানের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নানা তথ্য তুলে ধরেন। জেনারেল ইকবাল জানান, র‍্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদের যোগদানের পর এডিজি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জিয়াউলকে তার আবাসিক টাওয়ারের নিরাপত্তা গার্ড সরিয়ে নিতে, সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলতে এবং সামরিক নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু জিয়াউল সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সাবেক এই সেনাপ্রধান আরও জানান, ব্রিগেডিয়ার জগলুলকে জিয়াউলকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে জগলুল তাকে জানান যে, জিয়াউলের মাথা পাথর দিয়ে ঠাসা, তাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই। জিয়াউলকে একজন সিরিয়াল কিলার হিসেবে আখ্যায়িত করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh