Facebook Twitter Instagram YouTube

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দিল না দিল্লি পুলিশ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ /
দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দিল না দিল্লি পুলিশ

দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। অনুষ্ঠানটি শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। এফসিসি বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ আয়োজকদের জানিয়ে দেয় যে, ‘কিছু বিতর্ক’ থাকায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

সরকারিভাবে কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা না হলেও, ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ আগস্ট একই ক্লাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি এবং তার মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ভারত সরকার এ ধরনের ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের নিশ্চয়তা দাবি করেছিল এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও সামনে এসেছিল। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন কোনো বিতর্ক এড়াতেই দিল্লি পুলিশ এই সেমিনারের অনুমতি দেয়নি, যা ভারত সরকারের বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের আন্তরিকতার একটি প্রতিফলন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এর আগে জানিয়েছে যে, ওই মঞ্চ থেকে যা বলা হয়েছে তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

সেমিনারটিতে আলোচক হিসেবে আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোমেটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানি। এছাড়া চেক রিপাবলিকের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজেরও এতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এফসিসির সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ জানান, এটি মূলত উন্নয়ন ও পার্টনারশিপ বিষয়ক একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার আয়োজন ছিল এবং পুলিশের এমন সিদ্ধান্তের কারণ তার কাছে অস্পষ্ট।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo