Facebook Twitter Instagram YouTube

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বরদাশত নয়, কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ /
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বরদাশত নয়, কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। পর্দা ও বালিশকাণ্ডের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। কিন্তু এসব অনিয়মের পরও স্বাস্থ্যসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ হাসপাতালগুলোতে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সরাসরি কাউন্টারে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর ও ওষুধের স্টোর ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সমস্যার কথা শোনেন। রোগীরা এ সময় চিকিৎসক ও জনবল সংকট, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ওষুধের ঘাটতির মতো বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অভিযোগগুলো শুনে মন্ত্রী সমাধানের আশ্বাস দেন।

রোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের তিনজন সিনিয়র সেবিকা— রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া, হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করে দ্রুত সংকট নিরসনের নির্দেশ দেন।

ঝটিকা পরিদর্শনের সময় ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান, চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার ও সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুজ্জামান (বদু) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy