Facebook Twitter Instagram YouTube

দাম্পত্য জীবন সুখময় করার ইসলামি উপায় ও দিকনির্দেশনা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ / ০
দাম্পত্য জীবন সুখময় করার ইসলামি উপায় ও দিকনির্দেশনা

ইসলামে বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। পৃথিবীর সকল নবী-রাসুলই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় এবং উত্তম উপায়ে বংশধারা রক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানুষের প্রশান্তির জন্য তাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন। এই মানসিক প্রশান্তি ও ভালোবাসা অর্জনের জন্য স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে একে অপরের প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক।

দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় রাখতে হলে কিছু বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। কর্মব্যস্ততা বা মোবাইল ফোনের ব্যবহারের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়, তা দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি ও অশান্তি ডেকে আনে। ঘরের কাজ বা সন্তানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে কথা বলা এবং সময় কাটানো অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, সাজসজ্জা ও পরিপাটি থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি অবহেলা করা হয়, অথচ বাইরে সাজগোজের প্রতি বেশ সচেতনতা থাকে। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবনসঙ্গীর পছন্দের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং ঘরে একে অপরের জন্য পরিপাটি থাকা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধুর্য বাড়ায়।

তৃতীয়ত, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। স্ত্রীর দায়িত্ব হলো স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার সেবাযত্ন করা। অন্যদিকে, স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর ভরণপোষণসহ যাবতীয় বৈধ প্রয়োজন পূরণ করা। বর্তমান সময়ে অনেকে স্বামীর সেবাযত্নকে ছোট করে দেখার প্রবণতা দেখালেও, আদর্শ দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বের কোনো বিকল্প নেই।

চতুর্থত, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু অর্থসম্পদ বা বংশমর্যাদাকে প্রাধান্য না দিয়ে ধার্মিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) নারীদের চার গুণের কথা উল্লেখ করে ধার্মিক নারীকে বিয়ে করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এছাড়া, স্বামীর অবাধ্য না হওয়া স্ত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, স্বামী স্ত্রীকে ডাকলে স্ত্রী রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও তার ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত।

পরিশেষে, কর্মক্ষেত্রে বা সামাজিক জীবনে পরনারী বা পরপুরুষের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা দাম্পত্য জীবনে বিষাদ ডেকে আনে। একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখা এবং অবৈধ সম্পর্ক এড়িয়ে চলাই সুখের সংসারের মূল চাবিকাঠি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh