
বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘জোরপূর্বক শ্রমে’ উৎপাদিত পণ্যের আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদ্যমান অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রিয়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এমন আইন নেই, আবার থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেয়। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), চীন, জাপান, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে। জোটটির দাবি, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে তাদের আইন বিশ্বের অন্যতম কঠোর, তাই এই অজুহাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :