
দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো তাড়াহুড়ো না করে বরং ধাপে ধাপে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরিফ হোসেন খান জানান, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সবচেয়ে সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংককে একীভূতকরণ বা মার্জার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব ব্যাংক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
পদ্মা ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, একসঙ্গে অনেক ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়ার কারণে সব সমস্যার সমাধান একই সময়ে করা সম্ভব নয়। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আমানতকারী, গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির উন্নয়নের অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের দাবির মুখে ‘হেয়ারকাট’ বাতিল এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পরপরই সার্কুলার জারি করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা করে নির্দেশনা তৈরির কাজ চলছে। কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে সরকার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আপনার মতামত লিখুন :