
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন চাটমোহর এলাকায় প্রায় এক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দিনাতিপাত করছেন গ্রাহকরা। শ্রাবণের তীব্র গরমে জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানা গেছে।
চাটমোহর পৌর এলাকায় হাসপাতাল, থানা ও বিভিন্ন সরকারি অফিস থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতাল ও ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য আলাদা ফিডার থাকলেও সমন্বয়হীনতার কারণে পৌর এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন ৫টি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন, যাদের সবার ওপরই সমানভাবে এই লোডশেডিং কার্যকর করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় হিট স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটছে। চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার হুমায়ুন কবির জানান, লোডশেডিং ও গরমের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের রোগী বাড়ছে। তিনি সবাইকে বেশি করে ঠান্ডা পানি পান করার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্থানীয় ব্যবসা ও খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের ফলে হিট স্ট্রোকে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে এবং ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ইলেকট্রনিক মেকানিক ময়লাল হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, অথচ কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী জানান, প্রতিদিন তাদের এলাকায় ৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৬ মেগাওয়াট। বাধ্য হয়েই ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু তাদের অফিস নয়, সারা দেশেই একই সমস্যা চলছে। গ্রাহক অসন্তোষ প্রশমনে ওয়েবসাইট থেকে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৩১আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৩২
এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টায় ১২/১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরো ভয়াবহ।
আপনার মতামত লিখুন :