Facebook Twitter Instagram YouTube

পাবনায় মরুভূমির খেজুর চাষে সফল উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরু


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ /
পাবনায় মরুভূমির খেজুর চাষে সফল উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরু

পাবনার মাটিতে মরুভূমির খেজুর চাষ করে সাফল্যের নজির গড়েছেন সাইফুদ্দিন হিরু। ২০২২ সালে শখের বশে গয়েশপুর এলাকার রাজিব নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র চারটি চারা সংগ্রহ করে ৩৩ শতাংশ জমিতে তিনি এই বাগানের যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিকে বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খেজুর চাষের চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্থানীয় অভিজ্ঞ কৃষকরা তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে দমে না গিয়ে ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে তিনি কৌশলগতভাবে এগিয়ে যান।

বর্তমানে হিরুর বাগানে ৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ ও বড়ইসহ প্রায় ১০-১২টি উন্নত জাতের খেজুর গাছ দেখা যাচ্ছে। বাগান থেকে উৎপাদিত নতুন চারা বা সাকার ব্যবহার করে তিনি বাগানটি আরও বড় করার পরিকল্পনা করছেন। তার এই সফলতার গল্প শুনে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসছেন। টেবুনিয়ার কৃষক হাসান এবং একদন্ত এলাকার তরুণ রুহুল আমিন এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খেজুরের স্বাদের ওপর, যা নিয়ে কলেজছাত্র রাফিনের মতো অনেকের মনেই কৌতূহল রয়েছে।

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সাইফুদ্দিন হিরু বলেন, শুরুতে মানুষের তুচ্ছতাচ্ছিল্য তাকে কষ্ট দিলেও তিনি হাল ছাড়েননি। এখন গাছে ফল দেখে তার সব পরিশ্রম সার্থক মনে হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, উদ্যোক্তা হিরু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সফল হলেও আমাদের দেশের মাটিতে মরুভূমির তুলনায় গাছের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম। কৃষি বিভাগ বাগানটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং এই প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ করছে। খেজুরের স্বাদ ও বাজারদর সন্তোষজনক হলে বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পুরো জেলায় এই চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh