Facebook Twitter Instagram YouTube

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরাতে তৎপর সরকার


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ /
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরাতে তৎপর সরকার

ভারতের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিশন কাজ করছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের 'শিখা ইন' নামক আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মোট নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত সাত জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং দুইজন ভারতীয় নাগরিক।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া ঢাকার সাভারের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবুও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। উপ-হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাকি দুই জনের পরিচয় শনাক্ত হলে নিহতদের মধ্যে আরও বাংলাদেশি রয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহ দেশে হস্তান্তরের বিষয়ে মোহাম্মদ খালেদ জানান, স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মিশন। সব প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী শুক্রবার নাগাদ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর খরচ সরকার বহন করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, যেহেতু নিহতরা শ্রমিক ছিলেন না, তাই এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ভূমিকা সীমিত থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা যদি মরদেহ ফেরানোর ব্যয় বহনে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হোটেলটির মালিক বিরেশ্বর মিত্রসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না মেনেই হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হোটেল মালিকের স্ত্রী লিপি মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্বামী সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং হোটেলের বিদ্যুতের লাইনে সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনে প্রায় ২০টি হোটেল রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত সেখানে হোটেলের সংখ্যা বাড়ছে। হোটেল মালিককে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin