Facebook Twitter Instagram YouTube

দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে নাটকীয় মোড়, কূটনৈতিক বিবৃতির নেপথ্যে নতুন বার্তা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৮, ২০২৬, ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ /
দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে নাটকীয় মোড়, কূটনৈতিক বিবৃতির নেপথ্যে নতুন বার্তা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সমীকরণে হঠাৎ করেই এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দু’দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা ও হিমশীতল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা এক কূটনৈতিক বিবৃতির মাধ্যমে নতুন মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সরকারি মদতে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। দিল্লির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবের কর্মকাণ্ডে তাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু বাস্তবে সংবাদ সম্মেলনটি ভারতীয় সাংবাদিকদের আধিপত্যে এবং হাসিনার পুত্রের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হওয়ায় তা ঢাকাকে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত করে।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা তাৎক্ষণিক এক রাজনৈতিক বিবৃতি প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সুযোগ দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে হাসিনার এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং শহীদদের অপমান। বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, তারা দেশটিকে আর ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে বা তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবে না। এছাড়াও ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতের সাড়া না পাওয়া এবং তাকে গণমাধ্যমের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিবৃতির পরপরই দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আত্মসমালোচনার খবর পাওয়া যায়। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সমন্বয় করার পরও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ঢাকা অসন্তোষ প্রকাশ করে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় এবং ঢাকা নতুন বার্তা পায়। সূত্র মতে, দিল্লির বিদেশ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা একটি বিশেষ পত্র নিয়ে দ্রুত ঢাকায় আসছেন, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্ব থাকবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আমন্ত্রণও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ১০ই আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। এদিকে জুলাই বিপ্লবের অনুষ্ঠান বয়কট ও বিদেশি কূটনীতিকদের প্রস্থানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ছক ও হাসিনার তৎপরতার বিষয়টিও এখন পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin