
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাবেয়া হাসপাতালের পাশের ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় শুক্রবার চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আটকে রাখা চার তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই তরুণীদের আটকে রেখে পর্ন ভিডিও তৈরি, লাইভ সম্প্রচার এবং পতিতাবৃত্তির কাজে বাধ্য করা হতো বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভীন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং তাদের সহযোগী আব্দুর রহিম। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে নোয়াখালীতে বসবাস করছিলেন। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এনে আটকে রাখা হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া চার তরুণীর মধ্যে একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও তৈরির কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, চাবুক, চাকু, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণী ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, তাকে বিউটি পার্লারে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সালাউদ্দিন বিপ্লবের বাসায় আনা হয়েছিল। সেখানে তিনি আরও তিন তরুণীকে দেখতে পান। এরপর জোরপূর্বক তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো এবং প্রতিবাদ করলে মারধর করা হতো।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :