
কোমর থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব ও ঊরু বেয়ে পায়ের দিকে ব্যথা নেমে যাওয়া একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি কেবল সাধারণ কোমরব্যথা নয়। অনেক সময় এর পেছনে স্নায়ু, মেরুদণ্ডের ডিস্ক কিংবা পেশির জটিল সমস্যাও জড়িত থাকতে পারে। ব্যথার তীব্রতা, ধরন এবং এর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই সমস্যার কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি বলে জানিয়েছেন ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ।
সাধারণত কোমরের নিচের অংশ দিয়ে আমাদের শরীরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা নার্ভ চলে গেছে। কোনো কারণে এসব স্নায়ুতে চাপ লাগলে বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হলে ব্যথা তার গতিপথ ধরে নিতম্ব ও পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে এক পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যথাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় সায়াটিকা বলা হয়ে থাকে। এই সায়াটিকার ব্যথার পাশাপাশি পায়ে ঝিনঝিন করা, অবশভাব অনুভূতি হওয়া, জ্বালাপোড়া বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলেই যে সেটি সায়াটিকা হবে, এমনটি ভাবা ভুল। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েই এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা উচিত।
এ ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ উপসর্গ ও বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন— হাঁচি বা কাশির সময় ব্যথার তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ব্যথার স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কোমরব্যথাকে সাধারণভাবে তীব্র, উপতীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী— এই তিন ভাগে ভাগ করেছে। হঠাৎ ভারী কোনো জিনিস তুলতে গিয়ে, পড়ে গিয়ে কিংবা পেশিতে হঠাৎ টান লেগে যে তীব্র বা আকস্মিক ব্যথা শুরু হয়, তা সাধারণত তীব্র ব্যথার পর্যায়ে পড়ে। অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হওয়া এবং ধীরে ধীরে কমতে বা বাড়তে থাকা ব্যথাকে উপতীব্র ব্যথা বলা হয়। আর দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা বা বারবার ফিরে আসা ব্যথা হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কোমরব্যথা যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর প্রকোপ বাড়তে থাকে এবং সাধারণত ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যথাজনিত অক্ষমতার প্রভাব অনেক বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা চাপ নেওয়া, ধূমপানের অভ্যাস এবং অতিরিক্ত বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) বা স্থূলতাকে কোমরব্যথাজনিত শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
কোমরব্যথা যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে WHO-এর তথ্য অনুযায়ী বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপ বাড়ে এবং ৫০-৫৫ বছর বয়সে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যথাজনিত অক্ষমতার প্রভাবও বেশি হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :