
দুই স্ত্রীর মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত জ্ঞান হারিয়েছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। দেশটির উত্তর উপকূলের একটি পর্যটন এলাকার ক্যাফেতে এই ঘটনা ঘটে। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জেরে নিজের প্রথম স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়িকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দিয়েছেন এই মিশরীয় কোচ।
হোসাম হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনজীবী মোহাম্মদ শামস বিবাহবিচ্ছেদের এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে হোয়াইদার সঙ্গে হোসাম হাসানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটলো। এই সংসারে আয়া, রুয়া ও ওমর নামে তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি মিশরের উত্তর উপকূলের একটি বড় হোটেলের ভেতরের ক্যাফেতে হোসাম হাসানের দুই স্ত্রী আকস্মিকভাবে মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে ক্যাফেতে থাকা অন্য অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন।
এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের নারীরাই শরীরে আঘাত পান এবং তাদের গায়ে কালশিটে দাগ পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য হোসাম হাসান নিজে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা সামাল দিতে ব্যর্থ হন এবং তীব্র মানসিক উত্তেজনার কারণে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মিশরের ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। দুই স্ত্রীর মধ্যকার বিরোধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখান থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা আর সম্ভব ছিল না। ফলে হোসাম হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
হোয়াইদা আল-গারবাওয়ের সঙ্গে হোসামের সম্পর্কের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ হলেও এর আগেও তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। ২০২২ সালে একবার তাদের মধ্যে প্রায় ১০ দিনের জন্য বিচ্ছেদ হয়েছিল, যদিও পরে তারা আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। তবে এবারের বিরোধের পর তাদের সেই সম্পর্ক স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হোসাম হাসান দিনা মোস্তাফাকে বিয়ে করেন, যিনি ‘ড্যান অ্যাডাম’ নামেও পরিচিত। মিশরের উত্তর উপকূলের মারিনায় পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :