
ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বাজারে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের হিলি বাজারে, যেখানে মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশীয় কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা কমেছে। সোমবার যে দেশীয় কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, মঙ্গলবার তা ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে। পাইকারি বাজারেও দামের এই উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনে তারা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে আসায় দেশীয় মরিচের ওপর বাড়তি চাপ কমেছে এবং সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। খুচরা বিক্রেতা তারেক হোসেন জানান, ভারতীয় মরিচ আসার খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সাইদুল নামে এক ক্রেতা বলেন, গতকাল ২০০ টাকায় যে মরিচ কিনেছি, আজ তা ১৫০ টাকায় কিনতে পেরেছি। এনতাজ শেখ নামে আরেক ক্রেতা জানান, উচ্চমূল্যের কারণে আগে প্রয়োজনের তুলনায় কম মরিচ কিনতে হতো, এখন দাম কমায় স্বাভাবিক কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে। গৃহিণী আমেনা বেওয়া বলেন, মরিচের উচ্চমূল্য কয়েকদিনের জন্য সংসারের বাজেট এলোমেলো করে দিয়েছিল, তবে দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক সাহবুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে আমদানির ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যা দেশীয় মরিচের দাম দ্রুত কমাতে ভূমিকা রাখছে। পর্যাপ্ত আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে। হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার চারটি ট্রাকে মোট ২৯ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে কাঁচা মরিচের দাম।
আপনার মতামত লিখুন :